খালি চোখে দেখলে মনে হচ্ছিল এটি একটি নিয়মিত চিকিৎসকের চেম্বার। রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, একের পর এক প্রেসক্রিপশন লেখা হচ্ছে, আর প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা করে পরামর্শ ফি। এমনকি প্রেসক্রিপশন প্যাডেও নামের আগে লেখা ছিল ‘ডাক্তার’। তবে বাস্তবে এর কোনোটিই সত্য ছিল না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারে একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এমনই ভয়ংকর ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রমের চিত্র উন্মোচন করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের চিকিৎসা সনদ ছাড়াই ওই ফার্মেসির মালিক দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখে আসছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, ফার্মেসির ভেতরে বসেই রোগীদের বিভিন্ন রোগের ‘চিকিৎসা’ দেওয়া হচ্ছিল এবং লিখে দেওয়া হচ্ছিল প্রেসক্রিপশন। এসব প্রেসক্রিপশনে ব্যবহৃত প্যাডে নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ দেখাতে পারেননি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ মানুষ অজ্ঞতার কারণে প্রতারিত হয়ে ভুল চিকিৎসা গ্রহণ করছেন, যা কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসা ও অবৈধ ফার্মেসির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের বৈধ সনদ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ফার্মেসিতে চিকিৎসকের মতো করে রোগী দেখানো হলেও এতদিন বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসেনি। অভিযানের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ব্রাহ্মণ/বার্তা২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক 













