Advertisement

রাজনীতিবিদদের ছত্র-ছায়ায় তরুণ প্রজন্মের অবনতি ও ছাত্ররাজনীতি-

Brahmanbariabarta

এই আর্টিকেল টি ২১৬।

মুন্সি সাব্বির আহাম্মদ:  রাজনীতি (Politics) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যা দ্বারা নাগরিক সরকারের রাজনীতিকেই বোঝানো হয়। সাধারণভাবে রাষ্ট পরিচালনা করার সমগ্র পদ্ধতিকে রাজনীতি বলে। একটি গনতান্ত্রিক দেশে ছাত্রদের রাজনৈতিক চর্চা অপরিহার্য । কিন্তু কখন থেকে এই চর্চা শরু হবে এটা ঠিক করতে হবে।বহু রাজনীতিবিদদের চিন্তা হলো বয়স যাই হোক আমার একজন কর্মী বাড়লো ! এই অনৈতিক চিন্তার কারণে বহু মেধাবী ছাত্রের ভবিষৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক বলতে আমরা সাধারনত ১৮ বছরের মানুষকে বুঝি।এই বয়সের পর একজন শিক্ষার্থী তার নিজস্ব চিন্তাধারার  সঠিক প্রয়োগের মাধমে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই এই বয়সের আগে কোন শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়ানো উচিত নয়।১৮ বছরের মধ্যে সে তার এস এস সি ও এইচ এস সি পরীক্ষা সম্পন্ন করে একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। তারপর লেখা-পড়ার পাশা পাশি যার ইচ্ছা সে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে রাজনীতির মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারবে। অন্যদিকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে ছাত্র রাজনীতির ইতি টানা উচিত। কারণ এদেশে সরকারী চাকুরীর বয়স সীমা ৩০ বছর পর্যন্ত ।কোন মেধাবী ছাত্রনেতা যদি রাজনীতির মাধ্যমে তার কাঙ্খিত অর্জনটুকু না করতে পারে তাহলে সে ২৫ বছরের পর থেকে যে কোন সরকারী চাকুরীতে যোগদান করতে পারবে।কিন্তু এদেশের ছাত্রসংগঠনগুলোতে ৩০ বছরের  ঊর্ধ্বে পর্যন্ত রাজনীতি করার সুযোগ রয়েছে । প্রায় প্রতিটি ছাত্র সংগঠনই তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র না মেনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বহু রাজনীতিবিদ তাদের ছাত্রনেতাদের কাছে ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য অস্র তোলে দিতেও কুন্ঠা বোধ করে না । তাই এদেশের ছাত্ররাজনীতিকে কুলুষমুক্ত করতে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা বিবেচনা করে তাদের ছাত্রসংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা অতি প্রয়োজন। অন্যথায় ছাত্ররাজনীতির কুফল ভোগ করতে হবে সবাইকে।

মনে রাখতে হবে এদেশের ভূখণ্ডের জন্মের সঙ্গে মিশে আছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা৷ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-র শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি ও আন্দোলন সফল করায় তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম৷

যে দেশের ছাত্ররাজনীতি একসময় ছিল গৌরবের, সেই দেশের ছাত্ররাজনীতি যখন সংঘর্ষ, দলীয় কোন্দল, টেন্ডারবাজি, সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, শিক্ষক লাঞ্ছিতকরণ, বোমাবাজি, ইভ টিজিং, দখলদারিত্বের হয়ে ওঠে, তখন তো প্রশ্ন উঠবেই৷

ছাত্ররাজনীতির সমস্যা নিয়ে কথা বললে আলাপ চলতেই থাকবে৷ কিন্তু এর সমাধান কী? রাজনীতি থেকে দূরে থাকা বা রাজনীতিবিমুখতা কখনো সমাধান নয়৷ বরং দরকার সংস্কার৷ বহুজন ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বহু কথা বললেও সরকার বা দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের কোনো চেষ্টা চোখে পড়েনি৷ অথচ সমস্যা সমাধান করতে হলে রাষ্ট্র এবং সব রাজনৈতিক দল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে৷ সবার মনে রাখা উচিত, ছাত্রছাত্রীদের মূল কাজ হচ্ছে পড়াশোনা করা৷ ছাত্রনেতাদের ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত৷

পেছনে ফিরলে দেখা যাবে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যাঁরা ছাত্ররাজনীতি করতেন, তাঁরা ছিলেন ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রী৷ নিয়মিত ক্লাস করে, পরীক্ষা দিয়ে, নানা বিষয়ের জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে তাঁরা নিজেদের রাজনীতিসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ডে জড়াতেন৷ কিন্তু এখনকার ছাত্রনেতাদের পড়াশোনার সময় নেই৷ মূল সংগঠনের স্লোগান দেয়ার মধ্যেও তারা চাঁদাবাজি, ঠিকাদারি বা অর্থ আয়ের পথ খোঁজে !

জীবন চলার পথে প্রায়ই আমাদের সামনে ঘটে যায় বিভিন্ন ধরণের অনাকাংক্ষিত ঘটনা, আমরা চাইলে প্রযুক্তির কল্যানে খুব সহজেই ঘটনাগুলোকে ক্যামেরা বন্দি বা ভিডিও রেকর্ড করে ফেলতে পারি এবং খুব দ্রুত অন্যদের কাছে সেই ঘটনার খবর ছড়িয়ে দিতে পারি।

ভাইরাল২৪.কম এমন একটি ওপেন নিইজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি নিজেই কোন খবর বা ভিডিও পোস্ট করতে পারেন, আপনার সেই খবর বা ভিডিওটি হাজার হাজার মানুষ দেখবে, আপনার মাধ্যমে সবাই সেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে।

আমাদেরকে লেখা বা ভিডিও পাঠাতে "আপনিও হোন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক" পেইজ থেকে নিয়ম-কানুনগুলো ভালভাবে জেনে নিন।

Advertisement

Sorry, no post hare.