Advertisement

মোবাইল ফোন ও তরুণ সমাজ

Brahmanbariabarta

এই আর্টিকেল টি ৩০৮।

মুন্সি সাব্বির আহাম্মদ: মোবাইল ফোনের কারণে বর্তমান তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ মারাত্মক ভাবে হুমকির মুখে। এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের ফলে তরুণ সমাজ অল্প বয়সে নানা ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটাচ্ছে।যা কোন ভাবেই কাম্য নয় , এই ব্যাপারে অভিবাবকবৃন্দ এখনই সচেতন না হলে এর ফল ভোগ করতে হবে সারাজীবন।   প্রযুক্তি মানব সভ্যতায় এক বিপ্লব তৈরী করেছে। হাতের মুঠে যেন সারা পৃথিবী। নিমিষেয় যে কোন তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে অতি সহজে। এক মূহুর্তেই সারা পৃথিবীর সব খবর জানা যাচ্ছে। কোথায় কি হচ্ছে , কি ঘটছে, কি ঘটতে যাচ্ছে তাও অনুমান করা সম্ভব হচ্ছে এই প্রযুক্তির কল্যাণে। কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা  অতি প্রয়োজন । অন্যথায় প্রযুক্তির সুফল পাওয়া যাবে না বরং এর কুফল ভোগ করতে হবে সবাইকে। প্রযুক্তির একটি গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো মোবাইল ফোন । এটি প্রথমে শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহৃত হতো কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এটি এখন শুধু কথা বলার যন্ত্র নয় ,এখন এটি একটি  ছোট কম্পিউটার বললেও ভূল হবে না। ভাল মন্দ সবই পাওয়া যায় আধুনিক সব মোবাইলে। চাইলে দেখা যাবে পুরা ‍পৃথিবীর প্রায় সব কিছুই । এদেশে যখন মোবাইল এসেছিল তখন এতটা ব্যবহৃত হত না শুধু বয়ষ্করা এটি প্রয়োজনে ব্যবহার করত। এখন শিশু, কিশোর , যুবক, বৃদ্ধ সবার কাছেই এই মোবাইল দেখা যায়। প্রাইমারী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হাতেও মোবাইল ! কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার অভিবাবকরা যেন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। সাধারণত ১- ১০ বছর বয়সকে বলা হয় শৈশবকাল আর ১১ থেকে ১৮ বছর সময়কে বলা হয় কৈশর কাল।শৈশবে ছেলে মেয়েরা এটির প্রতি এতটা আসক্ত না হলেও কৈশরে ছেলে মেয়েরা এটির প্রতি বর্তমানে অনেক আসক্ত। মাধ্যমিকে সাধারণত ১১ বছরের ছেলে মেয়েরা লেখা পড়া করে যেটা কৈশরের প্রথম ধাপ। এই সময় থেকেই তাদের প্রতি অভিবাবকদের সচেতন থাকা উচিৎ । ১১ -১৮ বছরের ছেলে মেয়েদের যারা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে লেখা পড়া করছে তাদের ব্যাপারে অভিবাবকদের অনেক সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু বাবা মা  ছেলে মেয়ের আবদার রাখতে  তাদের কাছে একটি মোবাইল ধরিয়ে দেন ।কৈশরের যেই সময় ছেলে মেয়েদের নিজেরে সুপ্ত প্রতিভাকে জানার কথা । সেখানে বাবা মায়ের ভূলের কারণে এই বয়সে ছেলে মেয়েরা  সারা পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করছে। যার পরিণতিতে ছেলে মেয়েরা পর্ণগ্রাফি , ঝুকিপূর্ণ  ভিডিও গেম সহ প্রেম ভালবাসায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। কারণ কৈশরকালে ছেলে মেয়েদের একে অপরের  প্রতি একটি আকর্ষণ বিরাজ করে । আর মোবাইল ফোন থাকলে তো কোন কথায়ই নেই  উন্মোক্ত পৃথিবী । যা তরুণ সমাজের জন্য কোন ভাবেই কাম্য নয়। স্কুল – কলেজ পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর কি প্রয়োজন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ! প্রয়োজনে বাবা মায়ের মোবাইল তারা ব্যবহার করতে পারে অনলাইন ক্লাসের জন্য । কোন কিছু জানতে হলে  প্রতিটা স্কুল ও কলেজে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ।  একটি চায়ের দোকানে বসে এক অভিভাবক গর্ব করে বলছিলেন, ‘‘আমি নিজে স্মার্ট ফোন ঠিকমতো চালাতে পারি না। কিন্তু ছেলে সব পারে।’’ জানা গেল, ছেলের বয়স সবে দশ ছুঁয়েছে। অভিবাবকরা নিজের অজান্তেই ছেলে মেয়েদের অন্ধকারের  দিকে ঠেলে  দিচ্ছেন।

মহৎ উদ্দেশে আলফ্রেড নোবেলের ডিনামাইট আবিষ্কার হলেও তা পরবর্তীতে একসঙ্গে বহু মানুষকে দ্রুততম সময়ে হত্যার জন্য সে সময় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।  এমনই একসময় কারখানায় ডিনামাইট আবিষ্কারের এক পরীক্ষায় আলফ্রেড নোবেলের আপন ভাইসহ আরও ক’জন তার সামনেই জীবন্ত পুড়ে মারা যান।

এ দুনিয়ায় থেকেও বিশ্ব থেকে যেন বিচ্ছিন্ন এক দেশ উত্তর কোরিয়া। সিএনএন বলছে, উত্তর কোরিয়ায় ১০০০টি আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে বলে জানা গেছে। এবার আমেরিকার ১.৫ বিলিয়ন আইপি অ্যাড্রেসের সঙ্গে এর পার্থক্য নিজেই করুন। আমেরিকায় গুগলে কিছু একটা লিখে সার্চ দেন। হাজার হাজার ফলাফল চলে আসেব। ইউটিউবের ভিডিও তো রয়েছেই। সামান্য বিস্তৃত ইন্টারনেট রয়েছে উত্তর কোরিয়ায় যার নাম ‘ব্রাইট’। সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে মাত্র সাড়ে ৫ হাজার সাইট রয়েছে। সেখানকার মানুষ এই সাইটগুলোতে ঢুঁ মারেন কেবল পড়াশোনা ও সরকারি তথ্য পেতে।
উত্তর কোরিয়ার গড় মানুষের জন্য ইন্টারনেট নেই। যাদের আছে তারা নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে থাকেন। তবে বিশ্বস্ত গুটিকয়েকের জন্য ইন্টারনেটের পুরো ব্যবস্থা রয়েছে। তার মানে এই নয় তারা ইচ্ছে করলে যা মন চায় তাই করতে পারেন। তাহলে ভাবুন ইন্টারনেট মোবাইল ছাড়া যদি একটি দেশে চলতে পারে তাহলে অল্প বয়ষ্ক ছেলেমেয়েরা কেনো একটু নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলতে পারবে না। ১৮ বছর পেরুক তারপর মোবাইল , কম্পিউটার যা চায় দেন , তখন সে তার পারিপার্শ্বিক জগৎ সম্পর্কে জেনে বুুুুঝেই কাজ করবে। এদেশের কোন হোস্টেলে ছেলে মেয়েরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাবার মায়ের সাথে থাকার পরেও এদেশের প্রায় ৫০ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন!  তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে স্মার্টফোন নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ এমন হিসাব দিয়ে বলছে, নতুন স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সারা বিশ্বের  শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৭ নম্বরে থাকবে বাংলাদেশ। তাহলে ভেবে দেখার বিষয় অন্য অনেক খাতে আমরা যেখানে অনেক পিছিয়ে সেখানে স্মার্ট ফোন ব্যবহারের দিক  দিয়ে আমরা কতটা এগিয়ে !!!

বর্তমানে অনলাইন ক্লাস, বিনোদন ও কার্টুন- এসবের কারণে তরূণরা  সিংহভাগ সময় কাটে স্মার্টফোনে।  স্মার্টফোন, ট্যাব ও ইউটিউবে সময় কাটায়।  কিন্তু এ প্রযুক্তির ব্যবহারের  কারণে তরুণদের মধ্যে নানাবিধ বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে, এমনকি অতি অল্প বয়সেই তারা অ্যাডাল্ট বিভিন্ন কনটেন্ট দ্বারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এভাবেই তরুণরা  মোবাইলে অ্যাপসগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে এবং বিপজ্জনক সাইটেও ঢুকে পড়ছে।

প্রখ্যাত মোবাইল ফোন কোম্পানির মালিক ও মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন, কোনও অবস্থাতেই তাঁরা যেন চোদ্দো বছরের  নিচে সন্তানের হাতে মোবাইল তুলে না দেন। তাঁর নিজেরও  তিন সন্তান। তাদের কেউই নির্ধারিত বয়সের আগে মোবাইল পায়নি।  গেটস জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন খুব সহজ কাজ নয়। অভিভাবকেরাই ঠিক করবেন, একজন সন্তানের  বেড়ে ওঠা কেমন হবে। তাই সন্তানের হাতে  কখন মোবাইল তুলে দেবেন, কত দিন পর্যন্ত দেবেন না— সেই সিদ্ধান্ত তাঁদেরই নিতে হবে।

বিভিন্ন বিষেশজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা অভিভাবকদের এই বাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি প্রযুক্তির পীঠস্থান পশ্চিমা দুনিয়াও ইদানীং বুঝতে পারছে, ছোটদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিলে কী অবস্থা হতে পারে! চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন,  মোবাইলে আসক্ত হলে,  চোখের রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মানসিক ব্যধিও হতে পারে। লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে ছেলেমেয়েরা।

মোবাইল ফোন থেকে তরুণদের বিরত রাখতে নানা ধরনের শিক্ষামূলক    বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর কথা বলছেন বিশেষজ্ঞেরা।  শুধুমাত্র পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতায় পারে  আমাদের আগামীর ভবিষ্যত অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে।

জীবন চলার পথে প্রায়ই আমাদের সামনে ঘটে যায় বিভিন্ন ধরণের অনাকাংক্ষিত ঘটনা, আমরা চাইলে প্রযুক্তির কল্যানে খুব সহজেই ঘটনাগুলোকে ক্যামেরা বন্দি বা ভিডিও রেকর্ড করে ফেলতে পারি এবং খুব দ্রুত অন্যদের কাছে সেই ঘটনার খবর ছড়িয়ে দিতে পারি।

ভাইরাল২৪.কম এমন একটি ওপেন নিইজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি নিজেই কোন খবর বা ভিডিও পোস্ট করতে পারেন, আপনার সেই খবর বা ভিডিওটি হাজার হাজার মানুষ দেখবে, আপনার মাধ্যমে সবাই সেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে।

আমাদেরকে লেখা বা ভিডিও পাঠাতে "আপনিও হোন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক" পেইজ থেকে নিয়ম-কানুনগুলো ভালভাবে জেনে নিন।

Advertisement

Sorry, no post hare.