Advertisement

ডিজিটাল নেশা – পাবজি গেইম !

Brahmanbariabarta

এই আর্টিকেল টি ৩১৭।

মুন্সি সাব্বির আহাম্মদ : আধুনিক বিশ্বের এই ডিজিটাল যুগে তরুন প্রজন্ম  পাবজি গেইম নামে এক ডিজিটাল নেশায় আশক্ত হয়ে যাচ্ছে।প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে নেশা কি ? নেশা হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট জিনিসের উপর মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি।যে বস্তুু বা দ্রব্য ব্যবহারের ফলে মানুষিক, শারীরিক ও জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায় তখন তাকে নেশা বলে।   ২০১৩ সালে জুয়া খেলার আসক্তি এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া-কে নেশা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে এক সংস্থা । সেন্সর টাওয়ার নামে একটি সংস্থার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে এই মহামারীর সময়েও ভালোরকম আয় করেছে পাবজি মোবাইল গেম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘‌টেনসেন্ট গেমস।

বর্তমানে অনলাইন গেমগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে প্লেয়ার আননোউন্‌স ব্যাটল গ্রাউন্ড (পাবজি)। কারও কারও এই গেমের আসক্তি এতোটাই তীব্র হয়ে পড়ে যে, তারা ভুলেই যায় চারপাশের সবকিছু কোথায় কি ঘটছে। এজন্যই পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে গেমটি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেরও কিছু কিছু জায়গায় গেমটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে পাবজির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।

ভারতের মধ্য প্রদেশে পাবজি খেলতে খেলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এক কিশোর।  দুপুরের খাওয়া শেষ করেই মুঠোফোনে পাবজি খেলতে বসে ফুরখান কুরেশি। টানা ৬ ঘণ্টা একটানা খেলে হেরে যায় সে। এর পরেই উত্তেজিত হয়ে বাকি খেলোয়াড়দের ওপর চিৎকার করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘পাবজি’ নামে এই অনলাইন গেম চালু হওয়ার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অচেনা একদল খেলোয়াড় মিলে একে অন্যের বিরুদ্ধে বা অন্য কোনও দলের বিরুদ্ধে চলে যুদ্ধ। যে দল জেতে তারা পায় চিকেন ডিনার ও লড়াই করার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র। অত্যধিক আকর্ষণের জন্য খেলোয়াড়রা দিন-রাত তাদের মোবাইলে মগ্ন থাকে, পারিপার্শ্বিক জগতের দিকে কোনো খেয়াল থাকে না। একা একজন সৈনিক। তার লক্ষ্য একটা জায়গায় পৌঁছনো। কেমন সে জায়গা সে জানে না। কিন্তু পৌঁছতে হবেই। না পারলে যেন জীবন-মরণ পণ। এমত অবস্থায় সে যেন প্রায় নেশাগ্রস্থের মতো ছুটে চলেছে এবং ছোটার পথে একের পর এক মানুষকে গুলি করতে করতে চলেছে সে। এক মারণ খেলায় মেতেছে বাঙালি। যেমন মেতেছে সারা দুনিয়া। নাম তার পাবজি।
‘প্লেয়ার আননোন্স ব্যাটেল গ্রাউন্ড’ বা পাবজি। কী হয় সেই খেলায়? এরাঙ্গল, শ্যানহক আর মিরানমার—এই তিন ধরনের ম্যাপের যে কোনও একটা বেছে নিয়ে প্লেন থেকে নির্দিষ্ট লোকেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে জামাকাপড় থেকে শুরু করে বোমা-বন্দুক সংগ্রহ করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে সেই দ্বীপে।তার সারভাইভাল স্ট্র্যাটিজিই ঠিক করে দেবে শেষ পর্যন্ত সে জিতবে কিনা। এই খেলা সে একা, দু’জনে বা চার জনে (স্কোয়াড) খেলতে পারে। ‘হাংগার গেমস’ আর ‘ব্যাটেল রয়াল’ এই দুই ফিল্মেরই ছায়া রয়েছে এই খেলায়।

সৌখিন ভট্টাচার্য
গান করেন শহরের একটি ব্যান্ডে। তাঁর মতে ভার্চুয়াল জগত আর বাস্তব প্রায়ই গুলিয়ে যায় তাঁর। ‘বন্ধুদের সঙ্গে যখন কথা বলি, গেমের ভাষা বলে ফেলি। কাউকে ছাদে হাঁটতে দেখলে মনে হয় কীভাবে স্নাইপার দিয়ে তাক করলে তাকে নক আউট করা যাবে। খেলতে খেলতে রাত থেকে কখন ভোর হয়ে যায় বুঝতেই পারি না। কিন্তু তাও এই নেশা ছাড়তে পারছি না কিছুতেই।

এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের PUBG আলোচনার কেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, টানা ৪৫ দিন ধরে গেমটি খেলতে খেলতে ঘাড়ে ব্যথায় জ্ঞান হারান এক যুবক। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও  মৃত্যুর হাত থেকে শেষ রক্ষা হয়নি।

সম্প্রতি PUBG-কে ঘিরে নানান ঘটনা সামনে এসেছে। দিন কয়েক আগেই রেললাইনের ওপর দিয়ে গেমটি খেলতে খেলতে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান দুজন। এমনকী নির্বিঘ্নে PUBG খেলতে পারবেন বলে স্ত্রীকেও ডিভোর্স দিয়েছেন এক ব্যক্তি।

করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর হামলাও দমাতে পারেনি পাবজি খেলার নেশাকে। বরং গৃহবন্দির সময়ে পাবজি খেলার প্রবণতা যেন আরও বেড়ে গেছে।  আর এই পাবজি–র নেশায় মত্ত পঞ্জাবের এক ১৭ বছরের কিশোর বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করতেও দু’‌বার ভাবেনি। পাবজির বিভিন্ন পেড অ্যাপ্লিকেশন কিনতে গিয়ে এবং গেম আপগ্রেড করতে গিয়ে ওই বিপুল অর্থ রীতিমতো উড়িয়ে দেয় সে। তার  বাবা-মা ভাবতেন  অনলাইন পড়াশুনোর জন্যে রাতদিন মোবাইল নিয়ে বসে আছে। কিন্তু তলে তলে যে সে এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে তার আন্দাজ কোনওভাবেই করতে পারেননি তাঁরা।  পরিসংখ্যান অনুযায়ী শুধু ২০২০ সালেই প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মুনাফা অর্জন করেছে পাবজি।বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে যেখানে তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মত্ত থাকার কথা সেখানে আজকে তাদের অনেকেই এই সর্বনাশা পাবজি নিয়ে মত্ত। এর কবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাচাঁতে পারিবারিক, সামাজিক সচেতনতা সহ যারা এই খেলায় আসক্ত তাদের কাউন্সিলিং করে এর থেকে বের করতে হবে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই গেমের নেশা থেকে মুক্তি পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ এই গেম ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে। ভিডিও গেইম না খেলে ক্রিকেট, ফুটবল , বলিবল, ব্যাডমিন্টন, কেরাম , দাবা  ইত্যাদি খেলায় তাদেরকে উদ্ভোদ্ধ করতে হবে। এতে তাদের শারিরীক ও মনস্তাত্বিক দিকের উন্নতি হবে। যুব সমাজকে সর্বনাশা এই খেলা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।রাষ্টীয় ভাবেও এই খেলা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করতে হবে।

জীবন চলার পথে প্রায়ই আমাদের সামনে ঘটে যায় বিভিন্ন ধরণের অনাকাংক্ষিত ঘটনা, আমরা চাইলে প্রযুক্তির কল্যানে খুব সহজেই ঘটনাগুলোকে ক্যামেরা বন্দি বা ভিডিও রেকর্ড করে ফেলতে পারি এবং খুব দ্রুত অন্যদের কাছে সেই ঘটনার খবর ছড়িয়ে দিতে পারি।

ভাইরাল২৪.কম এমন একটি ওপেন নিইজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি নিজেই কোন খবর বা ভিডিও পোস্ট করতে পারেন, আপনার সেই খবর বা ভিডিওটি হাজার হাজার মানুষ দেখবে, আপনার মাধ্যমে সবাই সেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে।

আমাদেরকে লেখা বা ভিডিও পাঠাতে "আপনিও হোন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক" পেইজ থেকে নিয়ম-কানুনগুলো ভালভাবে জেনে নিন।

Advertisement

Sorry, no post hare.